শুক্রবার ০২, অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার ০২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

বিষয় কোড জটিলতায় সরকারি নিয়োগে ভোগান্তি নোবিপ্রবির সিএসটিই গ্র্যাজুয়েটদের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ছবি| ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় বিষয় কোড নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিগ্রির সমমান নির্ধারণ ও বিষয় কোড ব্যবহারে জটিলতার কারণে সরকারি চাকরিতে আবেদন থেকে শুরু করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির আবেদনে অন্যান্য বিভাগের মতো সিএসটিই গ্র্যাজুয়েটদের কাঙ্ক্ষিত বিষয় কোড নির্বাচন করার সুযোগ থাকে না। ফলে কম্পিউটার সায়েন্সের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে আইসিটি বিষয় হিসেবে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আসে। পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষাতেও তাঁদের ডিগ্রির সমমান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বিভিন্ন চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সিএসটিই বিভাগের জন্য পিএসসি নির্ধারিত বিষয় কোড ৩৬৩। তবে সরকারি বিভিন্ন পদের আবেদনের নির্ধারিত ঘরে এই কোডটি পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফলে বিকল্প বিষয় নির্বাচন করে কোডটি লিখে দিতে হয়। এতে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কোডের নির্ধারিত পদগুলোতে আবেদনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সব ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিষয়ভিত্তিক চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, কম্পিউটার সায়েন্সের পদের জন্য আবেদন করতে গিয়ে সিএসটিই গ্র্যাজুয়েটদের নিজেদের যোগ্যতা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়। এতে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মতো সমান সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে মোট ১৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এই কারিকুলামে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন মূল কোর্সও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে বিভাগটিকে সিএসইর সমমান দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ভোগান্তি শুধু সরকারি চাকরির অনলাইন আবেদনে সীমাবদ্ধ নয়। বিসিএসের প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল লিখিত পরীক্ষাতেও বিষয় কোড নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তাঁর দাবি, সিএসটিইর জন্য নির্ধারিত ৩৬৩ কোডের পাশাপাশি সিএসইর সমমানের ডিগ্রি হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্সের ৯৭১ কোড নির্ধারণ করা উচিত। কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে আইসিটির ২৮১ কোড দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমস্যা সমাধানে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি দেয় সিএসটিই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এতে সরকারি চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিজীবী সিএসটিই গ্র্যাজুয়েটদের বিষয় কোড, ডিগ্রির সমমান ও নিয়োগ প্রক্রিয়াসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়।
বিষয়টি সমাধানে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন বিভাগের অ্যালামনাই ও সহকারী অধ্যাপক এ. আর. এম. মাহমুদুল হাসান রানা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন ও নতুন সেটআপের কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অ্যালামনাই ও প্রতিনিধিরাও ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সমস্যাটির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
বিভাগ থেকেও পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএসটিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার দপ্তরে দেওয়া চিঠিতে বিভাগের কারিকুলাম ও পড়ানো বিষয়গুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে বিষয়টি বিপিএসসিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
এদিকে, গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পিএসসিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়।
বিপিএসসির কাছে পাঠানো চিঠির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, “আমরা আবেদন পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি।”
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “চিঠি দিয়েছে এপ্রিল মাসে। তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। এটি আমি দায়িত্ব পাওয়ার পূর্বের ঘটনা। আমাকে কারো পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের থেকে আমার খবর নিতে হবে। এরপর এটি নিয়ে আমি বলতে পারব। এ বিষয়টি আমি জেনে তারপর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন-ক্যাডার) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “এমন একটি আবেদন পিএসসিতে জমা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা যথাযথভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করব। কোনো সমস্যা থাকলে তার সমাধানে আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ওই বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের পাঠ্য অনুযায়ী উপযুক্ত সুবিধা পেতে যেন কোনো অসুবিধা না থাকে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনও দরখাস্ত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কমিশন প্রাপ্ত কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

Link copied!