হাবিপ্রবি থেকে ডালিম চন্দ্র রায়
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
শুক্রবার ০২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
ছবি| ক্যাম্পাস রিপোর্ট
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কাজী নজরুল ইসলাম ভবনের সামনে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার সাবেক সহ-সভাপতি নাসিফ নিলয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিলয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম ভবনের সামনে নিলয়ের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিলয়কে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যান।
ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শিহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কাজী নজরুল ইসলাম ভবনের সামনে শিহাব নাসিফ নিলয়কে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নিলয় ওই শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারলে শিহাবের ঠোঁট ফেটে রক্তাক্ত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সেখানে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়লে তারা নিলয়কে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিলয়কে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা অর্থনীতি বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোনেমকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর মো. আহসান হাবিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নিলয়কে নিয়ে একটি উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের কাছে তথ্যগুলো সরবরাহ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এখন তারা পুলিশের হেফাজতে আছে। আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নাসিফ নিলয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।