রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বিটোপিয়া গ্রুপ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার আহ্বান বেসিসের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, ভুয়া অর্ডার ও রিভিউ, কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচিত বিটোপিয়া গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ও ট্রাস্ট-আইটি (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জুয়েল।

তিনি বলেন, বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যথাযথ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগগুলোর প্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বেসিস জানায়, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, কৃত্রিম রিভিউ, ভুয়া অর্ডার কিংবা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনের মতো কোনো কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করে না। একই সঙ্গে তদন্তের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেসিসের সদস্য হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা হবে। গুরুতর অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।

মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, সরকারের যেকোনো বৈধ তদন্তে বেসিস সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথি চাওয়া হলে আইনগত এখতিয়ারের মধ্যে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিল্যান্সার, সাবেক কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য ‘কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড এভিডেন্স কালেকশন’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত তথ্য বা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভিযোগ করতে চান, তাহলে তারা সেখানে তথ্য দিতে পারবেন। তথ্যদাতাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের কাঠামোগত বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একজন ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা, চাকরি শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা এবং এজেন্সিভিত্তিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সীমা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।

এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড মার্কেটপ্লেস গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংকিং জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, করনীতি এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার মতো দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের নেতারা বলেন, কয়েকজনের সম্ভাব্য অনিয়মের দায় দেশের লাখো সৎ ও দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের ওপর চাপানো উচিত নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করছেন—এই বার্তাও বৈশ্বিক ক্রেতা ও মার্কেটপ্লেসগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, বেসিসের অবস্থান হলো—কোনো পক্ষ নেওয়া নয়, কোনো অভিযোগ ধামাচাপা না দেওয়া এবং তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী ঘোষণা না করা। স্বচ্ছ তদন্ত, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চায়।

Link copied!