তারেক পাশার সৌরভ,বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
সোমবার ১৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ সড়ক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তৈরি ‘দেশগার্ড এআই’ প্রদর্শন করছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। ঢাকার নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ মেলা ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে।
প্রকল্পটি তৈরি করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মুহাঃ আন নাহিয়ান প্রিন্স ও সিথী রাণী রায়। মেলার দ্বিতীয় দিনেও প্রকল্পটির স্টলে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, গবেষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রকল্পটির স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁকে নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত এবং অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে জানানো হয়। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রতিনিধিরাও প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন।
‘দেশগার্ড এআই’ এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সড়কের গর্ত, ফাটল বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি তুলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার দৃষ্টি প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব ছবি বিশ্লেষণ করে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সড়কের ওয়ারেন্টি ও দায়বদ্ধতা পর্যবেক্ষণ। ভবিষ্যতে সরকারি তথ্যভান্ডার ও ই-জিপি তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে কোনো সড়ক ওয়ারেন্টি মেয়াদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের তথ্য শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণ একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করে কোন এলাকায় কী ধরনের অবকাঠামোগত সমস্যা বেশি এবং কোথায় দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন-এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পে সড়কের গর্ত, ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটার দৃষ্টি, ভুয়া বা পরিবর্তিত ছবি শনাক্তকরণ, স্বয়ংক্রিয় বার্তা প্রদান, ওয়ারেন্টি পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উদ্যোক্তা মুহাঃ আন নাহিয়ান প্রিন্স বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ এবং মেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের ইতিবাচক সাড়া তাঁদের আরও উৎসাহিত করেছে। যথাযথ গবেষণা, দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রকল্পটি দেশের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সহকারী উদ্ভাবক সিথী রাণী রায় জানান, ‘দেশগার্ড এআই’-এর পরীক্ষামূলক অ্যাপ, সার্ভার ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটিকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য করতে আরও গবেষণা, তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থায়ন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
উদ্ভাবকদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে শুধু সড়ক নয়, সরকারি স্থাপনা ও অন্যান্য জনসেবামূলক অবকাঠামো পর্যবেক্ষণেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা।