প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনবরত নোটিফিকেশন, রিলস, শর্ট ভিডিও ও অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের কারণে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ডিজিটাল আসক্তি। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা, কর্মদক্ষতা ও দৈনন্দিন জীবনে।
এমন বাস্তবতায় ডিজিটাল মনোযোগ ও সময় ব্যবস্থাপনায় সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে ‘সেল্ফগার্ড’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ তৈরি করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার নাহিম।
অ্যাপটির নির্মাতার দাবি, সেল্ফগার্ড শুধু অ্যাপ ব্লক করার একটি টুল নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করার একটি উদ্যোগ।
ইফতেখার নাহিম জানান, ব্যক্তিগতভাবে কাজ বা কোডিংয়ের সময় ফোনের একের পর এক নোটিফিকেশনে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা শুরু করেন তিনি। পরে উপলব্ধি করেন, একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য মানুষ।
বাইপাস ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তা
বাজারে থাকা বিভিন্ন ফোকাস ও স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা সহজে নির্ধারিত নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারেন। এ সমস্যা বিবেচনায় সেল্ফগার্ডে ‘নো বাইপাস সিকিউরিটি’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান নির্মাতা।
তার দাবি, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতাগুলো কার্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং ধীরে ধীরে ইতিবাচক ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে অ্যাপটি।
ব্যবহারকারীর তথ্য ডিভাইসেই রাখার দাবি
সেল্ফগার্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করেছেন ইফতেখার নাহিম। তার ভাষ্য, অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করে। তবে সেল্ফগার্ডে ব্লক ফিল্টারিংসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।
নির্মাতার দাবি, অ্যাপটির অ্যাক্সেসিবিলিটি সার্ভিস থেকে পাওয়া তথ্য শুধু ডিভাইসের ভেতর রিয়েল-টাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ বা পাঠানো হয় না। একই সঙ্গে ব্লক রুলস, কী-ওয়ার্ড, ফোকাস সেশন, স্ট্রিকসহ অন্যান্য তথ্য এসকিউএলসিফার এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়।
এ ছাড়া অ্যাপটিতে কোনো তৃতীয় পক্ষের বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিং অ্যানালিটিক্স যুক্ত করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
ডাউনলোড নয়, ব্যবহারকারীর পরিবর্তনই সাফল্য
ইফতেখার নাহিম বলেন, অ্যাপটির সাফল্য তিনি শুধু ডাউনলোড বা ইনস্টলের সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করেন না। বরং ব্যবহারকারীর স্ক্রিনটাইম কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাকেই তিনি প্রকৃত সাফল্য হিসেবে দেখেন।
গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে বলে জানান নির্মাতা। বিভিন্ন পর্যালোচনায় ব্যবহারকারীরা মনোযোগ ধরে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে অ্যাপটির কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন।
একজন ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে দূরে রেখে মনোযোগ ধরে রাখতে অ্যাপটিকে কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য একজন অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষেত্রেও অ্যাপটির কার্যকারিতার কথা জানিয়েছেন।
‘সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেল্ফগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার নাহিম বলেন, “নিজের গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত রেখে অ্যালগরিদমের হাত থেকে নিজের সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেল্ফগার্ড।”
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেল্ফগার্ডকে একটি সাধারণ মোবাইল অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ের ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং মুভমেন্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তারা।
আগ্রহীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে সেল্ফগার্ড অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
