প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযোজিত করতে চার দিনব্যাপী ‘স্টুডেন্ট গ্রুমিং অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাডাপটেশন প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি ১৮ থেকে ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তলা একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুম-১ ও ২-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মসূচির সহযোগী হিসেবে রয়েছে ফিউচারনেশন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ।
চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, একাডেমিক পরিবেশ, নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক সুযোগ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী একাধিক সেশন পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চারটি দলে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রথম দিনে ‘থ্রাইভ অ্যাট এমবিএসটিইউ: লাইফ বিয়ন্ড দ্য ক্লাসরুম’ এবং ‘বিল্ডিং আ সেফ, রেসপেক্টফুল অ্যান্ড এথিক্যাল ক্যাম্পাস’ শীর্ষক দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানসিক স্বাস্থ্য, কাউন্সেলিং, ছাত্রকল্যাণ, ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা, র্যাগিং ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও নৈতিক ক্যাম্পাস গঠনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেশন পরিচালনা করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ।
রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টিং স্ট্রং: থ্রাইভিং ইন ইউনিভার্সিটি লাইফ’ শীর্ষক সেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন, মিশন, একাডেমিক সততা, দায়িত্ববোধ ও উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা নয়; এটি নিজেকে একজন দক্ষ, মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সূচনা। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চরিত্র গঠন, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপাচার্য নিজের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া এবং সততা ও শৃঙ্খলাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দেন।
১৯ জুলাইয়ের সেশন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুছা মিয়া। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিজিই, রসায়ন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানরা।
আগামী ২০ জুলাই ‘কমিউনিকেট উইথ কনফিডেন্স’ এবং ‘ফিউচার রেডি: অপরচুনিটিজ বিয়ন্ড দ্য ক্লাসরুম’ শীর্ষক সেশনে কার্যকর যোগাযোগ, একাডেমিক ও পেশাগত ইংরেজি, উপস্থাপনা দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন ফিউচারনেশন, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং কোয়াজি কনসালট্যান্সির বিশেষজ্ঞরা।
কর্মসূচির শেষ দিন ২১ জুলাই ‘লিড ইয়োরসেলফ বিফোর ইউ লিড আদার্স’ শীর্ষক সেশনে আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব, সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের গ্রুমিং ও অভিযোজনমূলক কর্মসূচি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিতে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
