শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬

শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

বৃষ্টির পানিতে কি সত্যিই ঘামাচি কমে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

ফাইল ছবি

বর্ষাকালে অনেকেরই বিশ্বাস, বৃষ্টির পানিতে ভিজলে ঘামাচি ও ত্বকের নানা সমস্যা দূর হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণার পেছনে কোনো জাদুকরী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মূল বিষয় হলো, অতিরিক্ত গরমে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে বা প্রদাহের কারণে ঘামাচি হয়। বৃষ্টির পানি যেহেতু ঠান্ডা, তাই এতে ভিজলে শরীর দ্রুত শীতল হয় এবং সাময়িকভাবে ঘামাচির জ্বালাপোড়া কমে।

ঘামাচি কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের তাপমাত্রা কমানো, বৃষ্টির পানি নয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, একই উপকার সাধারণ ঠান্ডা পানি দিয়েও পাওয়া সম্ভব।

ঘামাচির সমস্যা থাকলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা, আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা পানি ঢালা বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নিলে আরাম পাওয়া যায়। এমনকি মাটির কলসের ঠান্ডা পানিও এ ক্ষেত্রে চমৎকার কাজ করতে পারে।

বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করা কেন জরুরি?

অনেকে মনে করেন বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করলে ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধ হয়, যা আসলে সঠিক নয়। তবে বৃষ্টির পর গোসল করার অন্য একটি জরুরি কারণ আছে।

শহরের বাতাসে প্রচুর ধুলাবালি, রাসায়নিক ও অ্যাসিড থাকে, যা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আমাদের ত্বকে আটকে যায়। এই উপাদানগুলো ত্বকে র‍্যাশ, অ্যালার্জি বা চুলকানির সৃষ্টি করতে পারে।

তাই বৃষ্টিতে ভেজার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করে শরীর ধুয়ে ফেলা উচিত।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

বৃষ্টির পানির নিজস্ব কোনো বিশেষ গুণের কারণে ঘামাচি সারে না, শরীর ঠান্ডা হওয়াই এর আসল কারণ। তাই বৃষ্টিতে ভিজুন কিংবা ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন- উভয় ক্ষেত্রেই সাময়িক স্বস্তি মিলবে।

তবে ত্বকে যদি অস্বাভাবিক র‍্যাশ, তীব্র চুলকানি বা কোনো সংক্রমণ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Link copied!