মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ পিএম
বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত ছবি
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর একটি অংশে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এ বন্যায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আউশ ধানের ক্ষেত, গ্রামীণ সড়ক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গংগানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা। এসব এলাকার হাজারো পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো কার্যকর সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। বন্যার পানিতে বসতবাড়ির পাশাপাশি আউশ ধান ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, "রাতের বেলায় হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে যায়। কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম এক রাতেই প্লাবিত হয়েছে। আমাদের এখন থাকা-খাওয়ার খুব কষ্ট হচ্ছে।"
এদিকে, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, "ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএসএফ এর বাধার কারণে মখাবিলের এ অংশটুকুর কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বাঁধার মুখে অল্প কাজ করা হয়েছে।"
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে।"
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।