বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ, দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘাছড়ার ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশেও পৌঁছায়নি। খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এডিবির অর্থায়নে প্রায় ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কানাইদেশী ও উত্তর কানাইদেশী গ্রামের মধ্যে বাঘাছড়ার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

বর্তমানে চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণস্থলের পাশে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হলেও সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একই সঙ্গে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্কুল ছাত্র আজাদ, এলাকাবাসী রুবেল মিয়া, নেওয়ারুন বেগম ও সদরুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে কাজ বন্ধ থাকায় লাখ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে আমাদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানাই।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, "এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।"

সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক উত্তম কুমার স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে "গাড়িতে আছি, পরে কথা বলব" বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল আজম বলেন, "সাইনবোর্ডে দেওয়া কাজ আরম্ভ ও শেষের তারিখে ভুল রয়েছে। সেটি সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে। কাজের মেয়াদ আরও না বাড়ালে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।"

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, "প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে নিয়ে দ্রুত বসে কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

দীর্ঘসূত্রতায় স্থবির হয়ে থাকা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Link copied!