মঙ্গলবার ০৭, জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার ০৭, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

ইবির জাতীয় ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ আখ্যা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাব্বির আহমেদ

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কমিটি প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক বৈষম বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা‌।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এই সংবাদ সম্মেলন করে তারা। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, যুগ্ন আহ্বায়ক মিশনু আল আসনাউন, সদস্য নীরব আলি।

সংবাদ সম্মেলনে তারা সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় ছাত্রশক্তির ইবি শাখার কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ৫ জুলাই ঘোষিত কমিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং সাবেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সুবিধাভোগী এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে, যা জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বক্তাদের দাবি, ফুয়াদ হাসান অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর শাহ আজিজুর রহমান হলে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন নস্যাৎ ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে এনে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই কমিটি ছাত্রদলের ‘বি-টিম’ নাকি ছাত্রলীগের পুনর্বাসনের নতুন প্ল্যাটফর্ম?

তারা অবিলম্বে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কমিটি প্রত্যাহার করে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি পরিচ্ছন্ন, শিক্ষার্থীবান্ধব কমিটি গঠনের দাবি জানান।

একই সঙ্গে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায়ভার জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বহন করতে হবে।

ছাত্রশক্তির ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, হলে থাকার জন্য কিছু মিছিল মিটিংয়ে আমার বাধ্যতামূলকভাবে যাওয়া লাগছে। ২৪ এর আন্দোলনে আমি সম্মুখ সারিতে ছিলাম যার কারণে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে হল থেকেও নামিয়ে দেয়। কিন্তু আমি কখনোই ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্কিত ছিলাম না।

ছাত্রশক্তির ইবি শাখার সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীন বলেন, আমি শাখা ছাত্রদলে পদ পাওয়ার জন্য কোনো সিভি দেয় নি এবং তা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না‌। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে থাকার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন। আমি গণরুমে ছিলাম ১০ মাসের মতো যার কারণে আমাকে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু মিছিলে যাওয়া লাগছে কিন্তু আমি চব্বিশে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্মুখ সারিতে ছিলাম‌।

জাতীয় ছাত্রশক্তি এর সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, আমাদের সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী, অতীতে কেউ যে সংগঠনই করে থাকুক না কেন, যদি সে অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা আইনবিরোধী কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ না থাকে, তাহলে তাকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি বর্তমানে অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হয় বা তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

Link copied!