প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
মোঃ ফাহিম,পবিপ্রবি প্রতিনিধি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে টানা দুই দিনে এএনএসভিএম অনুষদের দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন মাঠ এবং অচল অ্যাম্বুলেন্সের কারণে দুর্ঘটনা পরবর্তী সেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, টুর্নামেন্টে আয়োজিত গত শনিবারের খেলায় এএনএসভিএম অনুষদের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম গুরুতর আহত হন। খেলার এক পর্যায়ে পড়ে গিয়ে তার হাত ভেঙে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে।
এর একদিন পর (রবিবার) একই টুর্নামেন্টে একই অনুষদের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহিদুল আলম সৈকত গুরুতর আহত হন।পরবর্তীতে তাকে বরিশালের রাহাত আনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয় এক্স-রে রিপোর্টে তার ডান পায়ের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
পরপর দুই দিনের এ দুই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনুষদের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেটি খেলার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, অসমতল অংশ ও শক্ত মাটির কারণে খেলোয়াড়দের জন্য প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি, কারণ সেটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে জরুরি মুহূর্তে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যা চিকিৎসা পেতে বিলম্বের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
পরপর দুই দিনে দুই শিক্ষার্থীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত খেলার মাঠ সংস্কার, সচল অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসানুর রেজা বলেন, “বিশ্বকাপের আমেজকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে হল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
মাঠ সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, “খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য বেশ বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। তাই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে আহত শিক্ষার্থীর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা বা আর্থিক সহায়তা করবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,“ আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ছাত্র কল্যান তহবিল থাকলেও পূর্ববর্তী অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়াতে এবং নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ এখনো এইখাতে না আসায় আপাতত ছাত্র কল্যান তহবিল থেকে অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ নেই।”
অ্যাম্বুলেন্স না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “ আইএফআইসি ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্ববর্তী উপাচার্য চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাস পেলেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি।”
খেলার মাঠ সংস্কার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “ মাঠ সংস্কারে বড় ধরনের বাজেটের প্রয়োজন। বাজেট বরাদ্দ ছাড়া এ কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”
