প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর কঠিন পরীক্ষা উতরে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সফল পেনাল্টিতেই নিশ্চিত হয়েছে তাদের জয়। সেই জয়ের পর এবার শেষ আটে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান ইউরোপীয় পরাশক্তি।
বাংলাদেশ সময় আগামী ৯ জুলাই রাত ২টায় বোস্টনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই কোয়ার্টার ফাইনাল।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় এলেও ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবল এবং তীব্র চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। তবে সেই ম্যাচের ধকল এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফরাসি শিবির।
ফ্রান্সের সহকারী কোচ গি স্টিফোঁ মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতিতে তরুণ ফুটবলারদের মানসিক দৃঢ়তা ছিল দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে চোট ও নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা কোচিং স্টাফের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দলের জন্য স্বস্তির খবর, ফরোয়ার্ড মার্কোস থুরাম সোমবার অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এখনো অ্যাবডাক্টরের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
চুয়ামেনির অবস্থা নিয়ে স্টিফোঁ বলেন, ‘ওর চোটের উন্নতি দেখছি। তবে ম্যাচটি বৃহস্পতিবার, হাতে সময় কম। ও অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করছে।’
এর পাশাপাশি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাইকেল ওলিসের পাওয়া হলুদ কার্ডও ফ্রান্সের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে কার্ডটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে ফিফার কাছে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া এবং নকআউটে নেদারল্যান্ডস ও স্বাগতিক কানাডাকে বিদায় করে দলটি প্রমাণ করেছে, তারা কেবল চমক দেখাতে আসেনি; শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
বিশেষ করে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় মরক্কোর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের নেতৃত্বে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ও সংগঠিত পাসিং ফুটবল ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
মরক্কোর শক্তি সম্পর্কে স্টিফোঁ বলেন, ‘ওরা সুসংগঠিত, গোছাল এবং পাল্টা আক্রমণে দারুণ বিপজ্জনক। মাঠের সবখানেই ওদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানোর মতো ফুটবলার আছে।’
একদিকে এমবাপ্পের গতিময় আক্রমণভাগ, অন্যদিকে হাকিমি-দিয়াজদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ধারালো ফুটবল—সব মিলিয়ে বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। এখন দেখার বিষয়, অভিজ্ঞ ফ্রান্স সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে, নাকি মরক্কো আরও একটি ইতিহাস গড়ে রূপকথার যাত্রা দীর্ঘায়িত করে।
