প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করে। সে বাড়ির সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি, গালিগালাজ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এমন অবস্থায় নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ক্রোধ সংযত রাখা, ধৈর্য ধারণ করা এবং আবেগের পরিবর্তে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। উপদেশ দেওয়া যত সহজ, বাস্তবে কঠিন মুহূর্তে তা অনুসরণ করা ততটাই কঠিন।
মানুষের জীবনে বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতি আসে, যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়ে তাকে উত্তেজিত করতে চায়। তখন আবেগে ভেসে না গিয়ে আগে চিন্তা করা উচিত-এই মুহূর্তে কোন আচরণটি সবচেয়ে কল্যাণকর হবে। যদি নীরব থাকাই উত্তম হয়, তাহলে অপরপক্ষ যতই উসকানি দিক, ধৈর্য ধরে নিজেকে সংযত রাখতে হবে। আর যদি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন হয়, তবে সেটি যেন কেবল আত্মরক্ষার সীমার মধ্যে থাকে এবং কখনোই প্রতিশোধ বা সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে না পৌঁছে।
মুখে ধৈর্যের কথা বলা সহজ হলেও বাস্তব জীবনে তা পালন করা অনেক কঠিন। বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় পরিচয় বহন করা কিংবা নিয়মিত ইবাদত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত পরীক্ষার সময় হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় দেখা যায়, নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলনকারী ব্যক্তিও রাগের মুহূর্তে আত্মসংযম হারিয়ে ফেলেন। এ কারণেই ইসলামে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহনশীলতা এবং সংযমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সুনান আবু দাউদ-এ বর্ণিত একটি হাদিস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের মধ্যভাগে একটি ঘরের দায়িত্ব নিচ্ছি, যে সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করে।’
এই সুসংবাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার ধন-সম্পদ, বাড়ি কিংবা বিলাসবহুল অট্টালিকা সবই সাময়িক। মানুষের পার্থিব জীবন সীমিত সময়ের, কিন্তু জান্নাতের প্রতিদান হবে চিরস্থায়ী। তাই সাময়িক রাগ বা প্রতিশোধের কারণে এমন মহামূল্যবান প্রতিদান থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
যদি কখনও অন্যায়ভাবে আপনার প্রতি জুলুম করা হয় এবং বুঝতে পারেন যে পাল্টা তর্ক-বিতর্ক করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, তাহলে ধৈর্যকেই বেছে নিন। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য শয়তান নানা যুক্তি সামনে আনতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের উচিত সেই প্ররোচনায় সাড়া না দিয়ে অযথা বিবাদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে শান্তভাবে সরে আসা।
এই শিক্ষা শুধু বাস্তব জীবনের জন্য নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারও মতামত বা পোস্ট নিজের চিন্তার সঙ্গে না মিললেই মন্তব্যের ঘরে অপমান, কটূক্তি বা তর্কে জড়িয়ে পড়া সমাধান নয়। অনেক ক্ষেত্রে নীরব থাকা, ভদ্রভাবে মত প্রকাশ করা অথবা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়াই অধিক প্রজ্ঞার পরিচয়।
তথ্যসূত্র: এই লেখাটি আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি বক্তব্যের মূল ভাব ও তথ্য অনুসরণ করে লেখা হয়েছে।
