প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২২ পিএম
কোরআন ও হাদিসে মুসলমানদের সোনার আংটি পরা নিষিদ্ধ এমন কোনো দলিল নেই। তবে শরীয়ত মতে এই আংটি পরা সাধারণভাবে বৈধ হলেও এর সঙ্গে রয়েছে কিছু শর্ত ও সতর্কতা। বিশেষ করে হাদিসে পুরুষদের জন্য সোনার আংটি হারাম বলে নিষেধ করা হয়েছে। তবে
নবী করিম (সা.)-এর এক হাদিসে এসেছে, তিনি এক হাতে সিল্ক ও অন্য হাতে সোনা ধরে বলেন, ‘এই দুইটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম, আর নারীদের জন্য হালাল।’ (ইবনে মাজাহ)
তাই ইসলামে পুরুষদের সোনা ব্যবহার করা, বিশেষ করে আংটি বা অলংকার হিসেবে নিষিদ্ধ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও সোনার আংটি পড়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মানা জরুরি। যেমন-আল্লাহর নাম লেখা আংটি না পরা এবং অহংকার এবং প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে অলংকার পরা নিষেধ।
আল্লাহর নাম বা কোরআনের আয়াত লেখা আংটি পরা শোভন নয়। কারণ, তা পরা অবস্থায় টয়লেটে যাওয়া অসম্মানজনক। এছাড়া অনেকে মনে করেন, কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা আংটি পরলে তা বিপদ থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের বিশ্বাস শিরকের কাছাকাছি।
আংটি পড়া ততক্ষণ কোনো দোষের নয় যতক্ষন এটা নিজের পছন্দ, সৌন্দর্যের জন্য হয়। কিন্তু কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্য, গর্ব করা বা সম্পদ জাহির করার জন্য আংটি পড়া হয় তাহলে তা ইসলামী দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।
অনেকে মনে করেন, বিয়ের আংটি পরা বিদআত বা ইসলামবিরোধী উদ্ভাবন। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। বিয়ের আংটি ইসলামী বিয়ের শর্ত নয়; এটি শুধু ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সাংস্কৃতিকভাবে বৈধ।
ইসলামে মূলত আংটি পরা নিয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে অহংকার, শিরক বা হারাম বস্তু ব্যবহারের ঝুঁকি যেন না থাকে সেদিকে সবার খেয়াল রাখা উচিত।
তথ্যসূত্র : অ্যাবাউট ইসলাম
