প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
দেখতে দেখেতে শেষ হয়ে গেলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ শেষ হলেও এর রেশ রয়ে গেছে আমাদের শরীর ও মনে। এই ঈদে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সার্মথ্য অনুযায়ী প্রায় সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানই গরু-ছাগল কোরবানি করে থাকেন। আর তাইতো এ সময় সবার বাড়িতেই চলে গরু কিংবা খাসির মাংস খাওয়ার ধুম।
তবে ঈদের সময় অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। ডায়রিয়া, পেট ব্যথা কিংবা হজমের গোলযোগকে অনেকেই সাধারণ বিষয় মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। আর এমনটা হয় অ্যালার্জি, খাদ্যে বিষক্রিয়া ও শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের শরীর লাল মাংসের নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। আলফা-গাল সিন্ড্রোম নামের এই অ্যালার্জির কারণে মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমিভাব, ত্বকে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় তা জীবনঝুঁকির কারণও হতে পারে, তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া অনেকের শরীর মাংসের চর্বি ও প্রোটিন সহজে হজম করতে পারে না। ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি কোরবানির সময় মাংস সংরক্ষণ বা রান্নায় অসতর্কতা থেকেও সমস্যা হতে পারে।
অপরিষ্কারভাবে রান্না অথবা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা মাংসে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা পেট খারাপের (ফুড পয়জনিংয়) কারণ হয়। এর ফলে বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থতা ফিরে আসে, তবে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, উচ্চ জ্বর বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা আরও জানান, পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলেও চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার পর হজমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে পাতলা ও তৈলাক্ত মল, ক্ষুধামন্দা, পেট ব্যথা, ওজন হ্রাস কিংবা চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঈদের সময় মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা, খাবার নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা এবং শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। এতে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যও বজায় থাকবে।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, এভরিডে হেলথ
