প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১০:৩১ এএম
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও।
পে-কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডে থাকা এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বেসিক ৫০ হাজার টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়।
ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার মূল বেতন বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা করার হিসাব করা হয়েছে। একইভাবে সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে হতে পারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা।
নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ—দুই ধরনের বেতন বৃদ্ধির হিসাব আলোচনায় রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০ শতাংশ বাড়লে তা হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা, আর দ্বিগুণ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ২৫ হাজার টাকায়।
১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেসিক ৯ হাজার ৩০০ টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে তারা পাবেন ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা, আর ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে বেতন হবে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা।
এছাড়া ১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের ৮ হাজার ৮০০ টাকার বর্তমান বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৩ হাজার ২০০ টাকা হবে। আর শতভাগ বৃদ্ধি পেলে তা দাঁড়াবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকায়।
২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে হবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর বেতন দ্বিগুণ হলে তারা পাবেন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী বেলন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈষম্যের মধ্যে রয়েছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে বিদ্যমান বেতনে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আসন্ন বাজেটে সরকার বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
