প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১০:১২ এএম
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পরও ঘন ঘন পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্র হয়ে আবেদন করলেই নির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে-এমন অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ফলে ‘পরীক্ষা পেছানোর সংস্কৃতি’ ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, একবার রুটিন প্রকাশের পরও যদি বারবার পরিবর্তন আসে, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কৃষি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-২ (২২ ব্যাচ) এর ‘প্যাথলজি’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা ২০ মে স্থগিত করা হয়। এর আগে একই ব্যাচের ‘সয়েল ৩০৩’ কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও তা কয়েক দফা পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি কৃষি অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-২ এর ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলেও ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার নির্ধারিত পরীক্ষা পরে স্থগিত করা হয়। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হয় ২ এপ্রিল থেকে।
শুধু কৃষি অনুষদই নয়, এএসভিএম অনুষদেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে একটি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়। পরে প্রায় ৬১ দিন বিরতির পর আবার সেই পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-২ এর ‘এফপিএইচটি ২৫১’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৪১ দিন পর, গত ১৩ এপ্রিল পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষদে বিভিন্ন সময়ে মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, অল্প কিছু শিক্ষার্থীর দাবির মুখে প্রশাসন বারবার নতি স্বীকার করায় একাডেমিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেশনজটসহ নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রুটিন যদি ঠিকভাবে অনুসরণই না করা হয়, তাহলে সেটি প্রকাশের অর্থ কী? এখন তো আবেদন করলেই পরীক্ষা পেছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছানো যৌক্তিক হতে পারে। তবে সহজেই অনুমোদন মেলায় বিষয়টি এখন অতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর হলে অযৌক্তিকভাবে বারবার পরীক্ষা পেছানোর প্রবণতা তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. বেলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের কাছেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা অনেক সময় সরাসরি বাসভবনে গিয়ে আবেদন করেন, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রশাসন ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
