প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীর প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও যোগদানের সম্ভাব্য সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে এবং সব প্রক্রিয়া শেষে অক্টোবর নাগাদ বিদ্যালয়ে যোগদান করানো হতে পারে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের মধ্যেই নতুন শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল প্রস্তুত করা হবে। এরপর জুলাই থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই চূড়ান্তভাবে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য মেয়াদ দুই থেকে তিন মাস হতে পারে। যদি দুই মাসে কার্যক্রম শেষ হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরেই যোগদান সম্ভব হতে পারে। তবে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ হলে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নেওয়া মূল্যায়নে কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারলে তিনি চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন না।
এ বিষয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)-এর মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, নতুন শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ মডিউল প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর মন্ত্রণালয়ের সভা হলে সেটি জমা দেওয়া হবে। অনুমোদনের পরই প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এমসিকিউভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
যদিও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, তারপরও এখনো চূড়ান্তভাবে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কারণে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনেও নামেন তারা। পরে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।
