বুধবার ২৭, মে ২০২৬

বুধবার ২৭, মে ২০২৬ -- : -- --

চীন সফরে নেই জবি ছাত্রদলের কোন প্রতিনিধি

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০২:০১ এএম

ফাইল ফটো

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রনেতাদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীন সফরের জন্য ঘোষিত প্রতিনিধি দলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কোনো প্রতিনিধির নাম না থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে। বিশেষ করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের পরও জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়াকে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আধিপত্যের বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে দেখছেন তারা।

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০ সদস্যের প্রতিনিধি তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর একাধিক নেতাকর্মী স্থান পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) থেকে নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা যায়, সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জবি ছাত্রদল জকসুতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয় অর্জন করে, যা অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ সেই সফলতার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি চীন সফরের প্রতিনিধি নির্বাচনে।

প্রকাশিত তালিকায় ডাকসু নির্বাচনে পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবণী আক্তার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রদলের সভাপতি নওশিন তাবাসসুম অথৈ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থী বিষয়ক সম্পাদক সেলিমা বিনতে তারিন রোদসীর নামও রয়েছে ওই সফরে। এ নিয়ে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে শিক্ষা ও ছাত্র নেতৃত্বভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি, সেখানে ছাত্র সংসদে বিজয়ী প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে পরাজিত কিংবা ছাত্র সংসদের বাইরের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলো কেন।

অনেকেই আরও প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা ও ছাত্র নেতৃত্ব বিষয়ক এ ধরনের কর্মসূচিতে যুবদল সংশ্লিষ্ট নেতাদের অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়েও।

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন,
“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করেছে। জকসু নির্বাচনে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জনের পরও আমাদের কোনো প্রতিনিধিকে চীন সফরে রাখা হয়নি। তবে যেহেতু প্রতিনিধি নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া, আশা করি পরেরবার সব বিবাচনা করে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে।"

অন্যদিকে সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আধিপত্য বজায় রাখা হয়। অথচ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্তৃক  চীন সফরের এই তালিকা সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।”

জকসুর লাইব্রেরি ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিয়াসাল রাকিব বলেন,“যারা সরাসরি ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে পরাজিত প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক সফরে পাঠানো গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।”

জকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য  মাহিদ খান বলেন,“জবি বরাবরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আমরা মনে করি, প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও ছাত্রদের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।”

জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাদমান সাম্য বলেন,“একটি শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক প্রোগ্রামে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপেক্ষা করা দুঃখজনক। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠনে শুধুমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রভাব না রেখে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও প্রতিনিধিত্বকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Link copied!