প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার প্রতীক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন। পরে শোভাযাত্রাসহ তাঁরা কবির সমাধিতে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। নজরুলের চেতনা ধারণ করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
স্মরণসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অনেক ঘাত প্রতিঘাত ও অভাব অনটনের মধ্যেও নজরুলের লেখনী থেমে থাকেনি। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে তাঁর সফল বিচরণ ছিল। তিনি জাতীয় কবিকে সাম্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, শান্তির কবি ও সব্যসাচী কবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, গবেষণা ও চর্চার মাধ্যমে নজরুলের দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাঁর আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী জাতীয় কবির চেতনা সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে কবির নাতনি খিলখিল কাজী স্কুল কলেজে নজরুলচর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘নানান ভাষায় যেন তাকে রচনাগুলো অনুবাদ করে পৌঁছাতে হবে। এছাড়া স্কুল-কলেজে শুধু কয়েকটি কবিতা দিয়েই নজরুলকে চেনানো হয়। নজরুলকে জানতে হলে তার পুরো জীবনী সম্পর্কে জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি স্কুল-কলেজে যদি নজরুলের পুরো জীবনী সম্পর্কে পড়ানো হলে, শিক্ষার্থীরা নজরুল সম্পর্কে আরো বিশদভাবে জানতে পারবে।’
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার পতাকা বহন করেছে কবি নজরুল। যত জাতীয় আন্দোলন, প্রতিটিতে মানুষ তার গান ও কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধান প্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।’
তিনি আরও বলেন, নজরুল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময় নজরুল বর্ষ হিসেবে পালন করা হবে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ আয়োজন সফল করা হবে। জাতীয় ও সামাজিক জীবনে নজরুল সব সময় প্রাসঙ্গিক। তিনি উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে গোটা উপমহাদেশকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।’
