প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক নীতির কারণে দেশটি এখন জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি।
তবে জাপানে পড়াশোনা মানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নয়। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের ভিসা, আর্থিক সক্ষমতা, আবাসন নিবন্ধন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। জাপান সরকারের অফিসিয়াল স্টাডি ইন জাপান প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এসব ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে ভর্তি হওয়ার পরও যাত্রা জটিল হতে পারে।
জাপানে পড়তে প্রথম বড় শর্ত যোগ্যতার সনদ (Certificate of Eligibility)
জাপানে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো Certificate of Eligibility (COE) বা যোগ্যতার সনদ।এই সনদ মূলত নিশ্চিত করে যে,
- শিক্ষার্থী জাপানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের যোগ্য
- শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রবেশের শর্ত পূরণ করেছে
- অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন গ্রহণযোগ্য
সাধারণত শিক্ষার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন,সেই প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীর পক্ষে জাপানের আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে।
কেন আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এত গুরুত্বপূর্ণ?
জাপানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু ভর্তি নিশ্চিত করলেই হয় না,নিজের বা পরিবারের আর্থিক সক্ষমতাও দেখাতে হয়।সাধারণত যেসব নথি চাওয়া হতে পারে।
✔ ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা সঞ্চয়পত্র
✔ আগের বছরের আয় সনদ
✔ অর্থের উৎসসংক্রান্ত কাগজপত্র
✔ স্পনসরের আর্থিক তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)
এই নথি শিক্ষার্থী বা আর্থিক অভিভাবকের নামে হতে পারে।
শিক্ষার্থী ভিসার জন্য কী কী লাগবে?
যোগ্যতার সনদ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের জাপানি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন করতে পারবেন।সাধারণত প্রয়োজন হয়,
- বৈধ পাসপোর্ট
- ভিসা আবেদন ফরম
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- Certificate of Eligibility
- অতিরিক্ত সহায়ক নথি (প্রয়োজনে)
ভিসা অনুমোদনের পরই জাপানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। জাপানে পৌঁছানোর পর নিতে হবে রেসিডেন্স কার্ড। জাপানে তিন মাসের বেশি সময় থাকবেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের Residence Card (Zairyu Card) নিতে হয়।এই কার্ড,
- পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়
- বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেয়
- প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজন হয়
বড় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে অনেক সময় ইমিগ্রেশন পর্যায়েই কার্ড দেওয়া হয়।
অন্য ক্ষেত্রে স্থানীয় নিবন্ধনের পর কার্ড সংগ্রহ করতে হয়।
ঠিকানা নিবন্ধন: ১৪ দিনের নিয়ম
জাপানে আবাসিক ঠিকানা ঠিক হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় পৌর কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
এটি না করলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
‘My Number’ কী এবং কেন প্রয়োজন?
জাপানে বিদেশিদের জন্য একটি ১২ সংখ্যার পরিচিতি নম্বর দেওয়া হয়-যার নাম My Number।এই নম্বর ব্যবহার করা হয়,
- ব্যাংকিং সেবা
- কর–সংক্রান্ত কাজ
- প্রশাসনিক নিবন্ধন
- খণ্ডকালীন চাকরির নথিপত্র
স্থানীয় নিবন্ধনের পর এটি ইস্যু করা হয়।
শুধু ভর্তি পরীক্ষা দিতে গেলে কী হবে?
যারা শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে জাপান যেতে চান, তাদের শিক্ষার্থী ভিসা নয়-অস্থায়ী দর্শনার্থী ভিসা নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে
- পরীক্ষার আমন্ত্রণপত্র বা ভাউচার
- ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য
জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী সাধারণত ১৫, ৩০ অথবা ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
আবেদন করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত আগে যাচাই করুন
- COE ছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে
- আর্থিক নথিতে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন জটিল হতে পারে
- আবাসিক নিবন্ধন সময়মতো সম্পন্ন করুন
“জাপানে পড়াশোনার প্রস্তুতি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নয়-ভিসা, আর্থিক প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক নিয়ম বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”জাপানে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে শুরু থেকেই সঠিক তথ্য জানা জরুরি। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিটি প্রশাসনিক ধাপ সময়মতো সম্পন্ন করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষাজীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।
