মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২৬

মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২৬ -- : -- --

ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারেই খালি হতে পারে অ্যাকাউন্ট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

প্রতীকী ছবি

ঈদের ছুটি এলেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট কিংবা বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় অনেকেই বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই পেলে দ্রুত সংযুক্ত হয়ে যান। তবে সামান্য এই অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকি। ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ড এমনকি ব্যক্তিগত ছবিও চলে যেতে পারে প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, ঈদ বা বড় উৎসবের সময় সাইবার অপরাধীরা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ এ সময় মানুষ ভ্রমণ ও কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন এবং অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়গুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না। সেই সুযোগেই নানা কৌশলে ফাঁদ পাতে হ্যাকাররা।

কীভাবে প্রতারণার শিকার হন ব্যবহারকারীরা?

ধরুন আপনি কোনো টার্মিনালে বসে আছেন। হঠাৎ ফোনে দেখা গেল ‘ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই’ কিংবা ‘ঈদ স্পেশাল ইন্টারনেট’ নামে একটি নেটওয়ার্ক। অনেকেই যাচাই না করেই সেটিতে যুক্ত হন। কিন্তু এসব নেটওয়ার্কের কিছু আসলে ভুয়া, যা তৈরি করে সাইবার অপরাধীরা।

মূল ওয়াই-ফাইয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে তারা নকল নেটওয়ার্ক চালু করে। ব্যবহারকারী সেখানে সংযুক্ত হওয়ার পর তার ফোনের ডেটা নজরদারির আওতায় চলে যায়। সাইবার জগতে এই কৌশলকে বলা হয় ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল অ্যাটাক’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম গোপনে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

কোন তথ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে?

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজেই চুরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্য, ফেসবুক ও ই-মেইলের পাসওয়ার্ড, বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও, অফিসের গোপন নথি, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অজান্তেই ফোনে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে।

সব বয়সীর জন্যই ঝুঁকি

সাইবার প্রতারণা শুধু তরুণদের সমস্যাই নয়। বর্তমানে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মানুষও স্মার্টফোনে ভিডিও কল, ইউটিউব বা অনলাইন টিকিট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। কিন্তু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

  • অচেনা নেটওয়ার্ক এড়িয়ে চলুন: পাসওয়ার্ড ছাড়া বা সন্দেহজনক নামের ওয়াই-ফাই ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।
  • পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে ব্যাংকিং এড়িয়ে চলুন: ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন লেনদেন না করাই নিরাপদ।
  • বিশ্বস্ত ভিপিএন ব্যবহার করুন: ভিপিএন ব্যবহার করলে ইন্টারনেট সংযোগ তুলনামূলক নিরাপদ থাকে এবং তথ্য চুরির ঝুঁকি কমে।
  • অটো কানেক্ট বন্ধ রাখুন: অনেক ফোনে পূর্বে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হওয়ার অপশন চালু থাকে। এটি বন্ধ রাখা উচিত।
  • টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন: ফেসবুক, জি-মেইল বা ব্যাংকিং অ্যাপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকলে হ্যাকারদের পক্ষে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়।
  • নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ আপডেট রাখলে নিরাপত্তা দুর্বলতা কমে যায়।
  • পাবলিক চার্জিং স্টেশনেও থাকতে পারে ঝুঁকি: শুধু ওয়াই-ফাই নয়, বিভিন্ন পাবলিক ইউএসবি চার্জিং স্টেশন থেকেও তথ্য চুরির আশঙ্কা থাকে। ‘জুস জ্যাকিং’ নামে পরিচিত এই কৌশলে চার্জিংয়ের সময় ফোনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিজের চার্জার ও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করাই নিরাপদ।

সচেতনতাই সুরক্ষার মূল উপায়

ঈদের আনন্দময় যাত্রা যেন প্রযুক্তিগত অসতর্কতায় দুর্ভোগে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সামান্য সতর্কতা ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাত্রাপথে ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন থাকুন এবং নিরাপদ থাকুন।

Link copied!