বুধবার ২০, মে ২০২৬

বুধবার ২০, মে ২০২৬ -- : -- --

ববি'র নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ববি'র নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে গত ১৫ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মামুন অর রশিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে তাঁর যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বিশেষভাবে ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট নিরসন, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

উপাচার্যের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন কেয়া বলেন, "নতুন উপাচার্যের আগমন শুধু প্রশাসকের পরিবর্তন নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সূচনা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্য স্যারের নিকট আমার প্রত্যাশা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি, ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ল্যাব, একাডেমিক ভবনের লিফট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানি, বসার স্থান ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। লাইব্রেরিতে সব বিভাগের একাডেমিক বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, হলের সিট সংকট সমাধান ও খাবারের মান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা করবেন। মেডিকেল সেন্টারে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জরুরি চিকিৎসা সেবা, ল্যাব টেস্ট ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। এছাড়া জব ফেয়ার, ইন্টার্নশিপ ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।"

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, "বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের অনেক আশা ও প্রত্যাশা রয়েছে। ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে গত ২ বছরে ৪ জন উপাচার্যের আগমন ঘটেছে এই ছোট ক্যাম্পাসে, তারা সবাই অনেক আশা এবং প্রত্যাশা দেখিয়েছে আমাদের, কিন্তু তাদের দেখানো আশা আর প্রত্যাশাগুলো কাগজে কলমেই থেকে গেছে, বাস্তবায়ন আর করা হয় নি। নতুন উপাচার্য স্যারের কাছ থেকে আমরা আর কোনো আশা বা প্রত্যাশা দেখতে চাই না সরাসরি কাজ বাস্তবায়ন দেখতে চাই, এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান দাবি হলো— সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল সঠিক সময়ে প্রকাশ করা। একই সাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণ এবং ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।"

মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী তাসমিয়া হক ঐশি বলেন, "অনেক আন্দোলন, হতাশা আর অস্থিরতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উপাচার্য পেয়েছে। তাই আমাদের নতুন উপাচার্যের কাছে এই প্রত্যাশা করব যে আমাদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে বাস সংকট, আবাসনের সমস্যা, সেশনজট ও প্রশাসনিক ধীরগতির ভোগান্তি থেকে এবার যেন মুক্তি মেলে। নতুন উপাচার্যের কাছে প্রত্যাশা— তিনি যেন প্রথমেই শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় যেন রাজনীতি আর বিভাজনের জায়গা না হয়ে জ্ঞান, গবেষণা ও সৃজনশীলতার জায়গা হয়।"

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, "যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। কথাটি এই প্রসঙ্গে বলতে না চাইলেও সত্য এটাই যে আধা ডজন উপাচার্য ববির চালকের আসনে আসীন হয়েও কাঙ্খিত আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন অনেকেই। ক্লাসরুম থেকে শিক্ষক; আবাসন হতে অবকাঠামো শুধু অপর্যাপ্ত না বরং চরম মাত্রায় অপর্যাপ্ত। সেই সাথে অভ্যন্তরীণ নানান সংকট তো আছেই। এই সবকিছু নিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া রোগীর মত শুধু হৃদপিণ্ড নিয়ে ধুঁকেধুকে বেঁচে আছে ববি। আমরা চাই অভ্যন্তরীণ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তাই রোগীর অবশ হয়ে যাওয়া হাত-পা সুস্থ করতে যে ধরনের ট্রিটমেন্ট দরকার, যত পাওয়ারফুল মেডিসিন এন্টিবায়োটিক কিংবা কেমোথেরাপি দরকার তার সবকিছুই করতে হবে সুস্থতার স্বার্থে। ববির ক্ষেত্রে এর বিকল্প কিছু দেখছি না। দ্রুততর সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস বর্ধিতকরণের জন্য জমি অধিগ্রহণ, পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, হল ও ক্লাসরুম বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক ও উন্নতমানের ল্যাব স্থাপনের মেগাবাজেট নিশ্চিত করতে না পারলে ধুঁকেধুকে বাঁচতে থাকা ববি বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিদ্যাপীঠ পরিণত হবে। এটা আমরা কখনোই চাই না। আমরা আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাসকে তার গৌরবময় অবস্থানে দেখতে চাই।"

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী চৈতী আক্তার বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কাছে আামাদের প্রত্যাশা অনেক। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট ও হল সংকটসহ নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীরা ভুগছে। আমরা জানি, সব অপ্রাপ্তি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় তবুও আমরা আশা করি তিনি দ্রুত এসব সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বড় বড় বাজেট ও উন্নয়ন সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন পিছিয়ে রয়েছে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ে উদ্যোগী হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। একজন দূরদর্শী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, "আমার প্রত্যাশা আমাদের নতুন উপাচার্য স্যার ক্যাম্পাসের সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সেশনজট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিবেন। অবকাঠামোগত যে সংকট গুলো রয়েছে দ্রুত ইউজিসির সহযোগিতা নিয়ে সংকট গুলোর সমাধান করবেন বলে মনে করছি। সর্বোপরি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব এক সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দিবেন বলে আশা রাখছি।"

শিক্ষার্থীদের মতে, নতুন উপাচার্যের কার্যকর নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে— এমন প্রত্যাশাই এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচিত হচ্ছে।

Link copied!