রবিবার ১৭, মে ২০২৬

রবিবার ১৭, মে ২০২৬ -- : -- --

রাঙামাটিকে নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়তে জেলা পুলিশের উদ্যোগ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

শনিবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের লেক ভিউ গার্ডেনে “ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি–২০২৬” এর উদ্বোধন করা হয়েছে

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত, যানজট নিরসন এবং পর্যটকবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে শনিবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের লেক ভিউ গার্ডেনে “ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি–২০২৬” এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি, স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহরে চলাচলরত অটোরিকশাগুলোতে কিউআর কোড সংবলিত স্টিকার সংযুক্ত করা হয় এবং মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে হেলমেট বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাঙামাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী হওয়ায় এখানে আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জেলা পুলিশের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “সম্প্রতি জ্বালানি তেল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে জেলা পুলিশ অ্যাপসভিত্তিক যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল, তা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “যানজট নিরসন, ট্যুরিস্ট বাস ও সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ যে ডিজিটাল ডাটাবেজ ও অ্যাপসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে, তা সময়োপযোগী উদ্যোগ।”

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটি শহরে চলাচলরত সব সিএনজি থ্রি-হুইলার ও চালকদের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪১৬টি সিএনজি ও সহস্রাধিক চালকের তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

নিবন্ধিত যানবাহনে কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল স্টিকার সংযুক্ত করা হবে। যাত্রী ও পর্যটকরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবহন সেবার মান সম্পর্কে রেটিং ও মতামতও দিতে পারবেন।

জেলা পুলিশ জানায়, যাত্রীদের দেওয়া রেটিং বিশ্লেষণের মাধ্যমে দক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এতে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়বে এবং একটি নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে “অনলাইন বাস টার্মিনাল (ওবিটি)” ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ও যাত্রীবাহী বাসের তথ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পার্কিং এবং যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পর্যটন মৌসুমসহ সারা বছর শহরে প্রবেশের আগেই ট্যুরিস্ট বাসগুলোকে ডিজিটাল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

জেলা পুলিশের দাবি, এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে বাস পার্কিংয়ে শৃঙ্খলা ফিরেছে, যত্রতত্র পার্কিং কমেছে এবং শহরের যানজট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ রাঙামাটিকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Link copied!