রবিবার ০৩, মে ২০২৬

রবিবার ০৩, মে ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে একাডেমিক গাইডলাইন ও কাউন্সেলিংভিত্তিক নবীনবরণ

মংক্যএ মার্মা,কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

কুবি নবীনবরণ ২০২৬ আইকিউএসি-তে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ব্যতিক্রমধর্মী নবীনবরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ দিনব্যাপী এই আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনে অর্থনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. শামিমুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমীন, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আবদুল হাকিম এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হায়দার আলী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একটি পরিবর্তনের সময়। এখানে তোমরা স্বাধীনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। ভালো ও খারাপের পথ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব এখন তোমাদের নিজেদের। সঠিক পথে চললে অনেক বড় কিছু অর্জন সম্ভব, আর ভুল পথে গেলে ক্ষতিও দ্রুত হতে পারে। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে পরিবারের প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। তাই নিজেকে দায়িত্বশীল, সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি, তবে পড়াশোনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা উচিত নয়।'

প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আবদুল হাকিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঠিক বন্ধু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা এবং মাদক ও র‍্যাগিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, 'অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত হলো যথাযথ নীতিমালা ও একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। শুধু ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ বা ‘কোয়ালিটি গ্র্যাজুয়েট’ তৈরির কথা বললেই হবে না এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মানদণ্ড অর্জন।'

তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান এবং গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা সবকিছুরই নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। সেই মানদণ্ডে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই প্রত্যাশা নিয়েই আমাদের অগ্রযাত্রা।আমরা ইতোমধ্যে প্রচলিত পাঠ্যক্রম থেকে বেরিয়ে আউটকাম বেইসড কারিকুলামের দিকে অগ্রসর হয়েছি, যা আমাদের নতুন পথচলার সূচনা। আজকের কর্মসূচিতে বিভিন্ন সেশন রাখা হয়েছে। সর্বশেষ সেশনে আমরা দেখাবো তোমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কোথায় এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও আমরা গ্রহণ করেছি।'

অনুষ্ঠানে মোট পাঁচটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি, একাডেমিক কাঠামো ও ওবিই কারিকুলাম, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগে কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

আগামী নয় দিন প্রতিদিন দুটি করে বিভাগ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

Link copied!