রবিবার ০৩, মে ২০২৬

রবিবার ০৩, মে ২০২৬ -- : -- --

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

বক্তব্যে রাখছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ চারুকলা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬’। রবিবার (৩ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আজকে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে। তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। একইসাথে যাঁরা আমাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সেই প্রখ্যাত শিল্পীদের নামে পুরস্কারের নামকরণ করায় তাঁদের স্মরণও করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে চারুকলার অবদান কোনো অংশে কম নয়। সমাজ ও সংস্কৃতিকে উন্নয়নের জন্য চারুকলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'

তিনি আরও বলেন,

'আমরা যেন তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে না যাই। আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সমাজ যেমন ছিল তার অনেকটাই পরিবর্তন হচ্ছে। আবার আগামী ৪০ বছর পরে এখন থেকেও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। তাই তোমাদের কৃতি শিক্ষকগণ সমাজে যেভাবে অবদান রাখছেন তোমরাও তেমনি বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়। তোমাদের কাজের মাধ্যমে ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী প্রজন্য এখান থেকে অনেক মূল্যবান উপাদান পাবে। আমি বিশ্বাস করি তোমাদের শিক্ষকগণ যেভাবে গড়ে তুলছেন এখান থেকে তোমরা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতান, পটুয়া কামরুল হাসানের মতো শিল্পী তৈরি হবে। যারা দেশের জন্য বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে সুনাম বয়ে আনবে। চারুকলার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা তৈরি করা যায়। এই সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরির পাশাপাশি সমাজেও যেন এর প্রভাব তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের উৎকর্ষতা অর্জনের সাথে সাথে সমাজ তথা দেশের উন্নতি লাভ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)। এছাড়া চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদার। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রদর্শনীতে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রিন্টমেকিং—এই তিনটি ধারায় শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

এছাড়া প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আঁকা শতাধিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

Link copied!