শনিবার ০২, মে ২০২৬

শনিবার ০২, মে ২০২৬ -- : -- --

তারুণ্যের আয়োজনে জাককানইবিতে হুমায়ূন মেলা

জাককানইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩’। ‘অনুভবে এক আকাশ হুমায়ূন’ স্লোগানকে উপজীব্য করে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন প্রাঙ্গণে বসে এই বর্ণাঢ্য উৎসব।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ মেলা শুধু একটি উৎসবই নয়, বরং এটি ছিল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘ইভেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের একটি সফল ব্যবহারিক প্রয়োগ।

মেলার শুরুতে উদ্বোধনী সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা অধ্যাপক রহমত আলী এবং অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি।

এরপর ‘এক আকাশ হুমায়ূন’ শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক পর্বে তারা হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই পর্বে ডা. এজাজুল ইসলামের আলাপচারিতায় হুমায়ূন আহমেদের জীবনদর্শন ও সৃষ্টিশীলতার দিকগুলো উঠে আসে।

দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজনে নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক রুদ্র শাওজালের একক গান ও ‘ঘাটু গান’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। আবৃত্তি সংগঠন ‘শব্দ কুঞ্জ’ পরিবেশন করে কাব্যনাট্য ‘অলিখিত প্রেমের দিনলিপি’। সন্ধ্যায় ‘হুমায়ূনপুর’ নাটিকা এবং ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনায় উৎসব শেষ হয়।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘হংশ শিকার’ প্রতিযোগিতা, যেখানে হাঁস ধরার খেলায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ‘জানা অজানা হুমায়ূন’ কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক কোর্স তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

পুরো দিনজুড়ে ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হুমায়ূনভক্তদের অংশগ্রহণে মেলা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

Link copied!