প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
আকতার হোসেন,ঢাকা জেলা
সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে । গত মঙ্গলবার সাভার পৌর এলাকার অ্যালাইড আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আজমাইন খান (১৩) । সে সাভার পৌর এলাকার উত্তর পাড়ার বাসিন্দা রাশেদ খানের ছেলে । বুধবার ( ২৯ এপ্রিল ) পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হয়।
শিক্ষার্থী আজমাইন জানায়, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বাংলা ক্লাস চলাকালে তার হাত থেকে একটি রাবারের গাটার ছুটে পাশের এক ছাত্রীর গায়ে লাগে । ওই ছাত্রী বিষয়টি শ্রেণি শিক্ষক আইরিন দীপাকে জানালে তিনি শ্রেণিকক্ষেই বিষয়টি মীমাংসা করে দেন । এতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বিষয়টি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আলম সিদ্দীককে জানায় ।
এরপর এক শিক্ষকের মাধ্যমে আজমাইনকে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নুর আলম সিদ্দীক তার হাতে থাকা স্টিলের বার দিয়ে আজমাইনের হাত ও পায়ে সাত থেকে আট বার সজোরে আঘাত করেন । পরে তাকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে গিয়ে শাস্তি হিসেবে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ।
আজমাইনের মা আইভী আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে ছেলে ঘটনাটি তাকে জানায় । তার হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং স্টিলের বারের আঘাতে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে যায়। ব্যাথায় সে ঠিকমতো বসতে বা শুতে পারছিল না। পরে রাতে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আলম সিদ্দীক বলেন, সকালের ঘটনার পর টিফিনের সময় আজমাইন ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশোভন ইঙ্গিত করেছিল। সে কারণে তাকে অফিস কক্ষে ডেকে শাসন করা হয়েছে। এ সময় কয়েকটি বাড়ি দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, “কাজটা ঠিক হয়নি, ভবিষ্যতে আর এমন হবে না।”
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার নজরে আনার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে । অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।
