প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, গবেষণা ও সৃজনশীল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের এ সময়ে মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক ও কার্যকর সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬” বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেধাস্বত্ব ও ক্রীড়া; প্রস্তুত হও, শুরু করো, উদ্ভাবন করো (IP and Sports: Ready, Set, Innovate)’—যা সময়োপযোগী এবং তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে সহায়ক।
তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি 'মেধাস্বত্ব সুরক্ষা' যেকোনো নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মপ্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। একইসঙ্গে ক্রীড়াপ্রযুক্তি, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, ক্রীড়াপণ্যের ব্র্যান্ডিং, সম্প্রচার শিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং উদ্যোক্তা বিকাশে এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “এটা বেশ আনন্দের বিষয় যে বাংলাদেশ আজ তারুণ্যের শক্তিতে ভরপুর। আমি মনে করি তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সচেতন। কাজেই উদ্ভাবক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সৃষ্টিশীল মানুষের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক, সহজ ও কার্যকর সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।”
তিনি জানান, অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু, দ্রুত সেবা প্রদান, আইনগত সুরক্ষা জোরদার এবং নকল পণ্য প্রতিরোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জামদানি ও ইলিশসহ দেশীয় পণ্যের বৈশ্বিক মর্যাদা সংরক্ষণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রীড়াখাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা যথার্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্র নয়; এটি সম্ভাবনাময় পেশা, সামাজিক শক্তি এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত।” ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাতা ও স্পোর্টস কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া দেশব্যাপী নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ ক্রীড়াভিত্তিক শিল্প, স্পোর্টস মিডিয়া, পর্যটন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
