প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পিএম
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় পায়রা উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় বরিশাল ক্যাম্পাসে। এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে শুরু হয় কাউন্টডাউন, যা দিবস উদযাপনের সূচনাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।
উদ্বোধনের পর সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষদের অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এতে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুষদের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। এ আয়োজন দিবস উদযাপনকে আরও বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফারিহা বলেন,
"আমাদের জন্য এবারের ভেটেরিনারি ডে ছিল কেবল একটি উদযাপন নয়; এটি ছিল ঐক্যের বিপ্লব। কাউন্টডাউন, মশাল মিছিল, র্যালি ও সাংস্কৃতিক সন্ধা সব মিলিয়ে দিনগুলো আমাদের একতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই ঐক্য আমাদের ভবিষ্যতের পথচলাকে আরও শক্তিশালী ও সহজ করে তুলবে। দিবসটিকে এতটা অসাধারণ করে তোলার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই সকল সিনিয়রকে।"
এ বিষয়ে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদুল আবেদিন বলেন,
"প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষ শনিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় “বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস”। প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের জন্য দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কেননা এটি প্রাণীদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছরই দিবসটি সাংগঠনিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। তবে এ বছর নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক আগ্রহ, নিরলস প্রচেষ্টা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।"
সানজিদুল বলেন, "অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর সহযোগিতার জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দিবস উদযাপনকে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলেছে।"
