প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম
ইরানকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আসলে কে? সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিলেও, কার্যত জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি এই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
‘অদৃশ্য’ সর্বোচ্চ নেতৃত্ব
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। কিছু লিখিত বিবৃতি ছাড়া তার সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ সীমিত। এমনকি প্রাথমিক হামলায় তিনি আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় শুধু পদ নয় নেতার দৃশ্যমান উপস্থিতি ও বার্তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভক্ত কূটনীতি ও অনিশ্চয়তা
ইরানের কূটনৈতিক নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।তবে বাস্তবে তাদের ভূমিকা সীমিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ-কে, যা প্রচলিত কাঠামোর বাইরে।
এমনকি কৌশলগত সিদ্ধান্ত যেমন হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে সরকারের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে, যা নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়।
সামরিক বাহিনীর প্রভাব বৃদ্ধি
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্তগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক শাখার বাইরে থেকেই নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আড়ালে থাকা সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘দৃশ্যমান’ গালিবাফের উত্থান
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামরিক পটভূমি থেকে আসা এই রাজনীতিবিদ বর্তমানে আলোচনায় সক্রিয়, জনসংযোগ বজায় রাখছেন এবং বাস্তববাদী অবস্থান তুলে ধরছেন।
তবে তার এই সক্রিয়তা সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি অনুমোদিত কিনা তা স্পষ্ট নয়। ফলে ক্ষমতার প্রকৃত কেন্দ্র কোথায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
ঐক্যের দাবি বনাম বাস্তবতা
ইরানের ভেতরে ঐক্যের বার্তা দিতে জনগণের মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে “এক জাতি, এক পথ।” এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও ইরানের নেতৃত্বকে ‘বিভক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে বাস্তবে প্রশাসন, কূটনীতি ও সামরিক বাহিনী সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ঘাটতি স্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হলেও তা একটি সুসংহত কৌশলে রূপ দিতে পারছে না।সব মিলিয়ে, ইরানের রাষ্ট্র কাঠামো এখনো টিকে থাকলেও নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা ও সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
