প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২২ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বৈঠকটি এখনও চলমান রয়েছে এবং এতে পাকিস্তানও সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এটি একটি ত্রিদেশীয় আলোচনা, যেখানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান অংশ নিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর পাকিস্তানের উদ্যোগে গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই ইসলামাবাদের এই বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে “দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে প্রথম ধাপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সংলাপে দুই পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইলকফ ও সাবেক উপদেষ্টা জারেড কুশনার উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নকভি বৈঠকে অংশ নেন। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুরুতে পরোক্ষভাবে আলোচনা হলেও পরে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যা একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আলোচনায় লেবানন পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিষয়সহ একাধিক ইস্যু উঠে এসেছে। ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাত সীমিত রাখার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ ছাড়ের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে আলোচনা সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়, অন্যদিকে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং বিদেশে জব্দ সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আলোচনাকে সফল করতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দিনের এই বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তি না এলেও ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে। ফলে ইসলামাবাদের এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এর চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
