প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় সংখ্যালঘু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ‘সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি’র পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকের নেতৃত্বে সাঁওতাল ও বাঙালি কৃষকদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে চিহ্নিত একদল ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সিউলি মারডি, লুকাস মুরমু ও মামালি হাঁসদাসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গোবিন্দগঞ্জ সাঁওতাল পল্লী হামলা ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আদিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাঁওতালদের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার দিনই গোবিন্দগঞ্জ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করা হলেও এখনো তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সাঁওতাল ও সংখ্যালঘু পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাঁসদা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংখ্যালঘু হওয়ার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাঁওতালদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। দ্রুত এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ, আসামিদের গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সাঁওতাল নেতারা জানান, পৈত্রিক ভিটেমাটি রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বারবার হামলা ও আইনি জটিলতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে ন্যায়বিচার না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ডা. ফিলিমন বাসকে, রাফায়েল হাঁসদা, বিটিশ সরেন, অঞ্জলি মুরমু, শিউলি মার্ডি, সাহেব মুরমু, আমিন হেমব্রোম, লুইস মুরমু, রিপন বেশরা, জয় শ্যামবালা হেমব্রোসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
