শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

খুবিতে উপকূলীয় পরিবেশ নিয়ে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

ফাইল ফটো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (এসডব্লিউই) ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রেজিলিয়েন্স ইন দ্য কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ আন্ডার এ চেইঞ্জিং ক্লাইমেট’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। তিনি বলেন, “খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। ভৌগোলিক কারণেই এই জনপদ ‘রিয়েল ক্লাইমেট ভিকটিম’। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- কীভাবে আমরা এই বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টিকে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মাটি ও পানির দূষণ টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রামপাল, মোংলা, কয়রা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এই সমস্যা প্রকট। এসব সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর ও প্রকৃতি-নির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন আজ বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য আমরাও কোনো না কোনোভাবে দায়ী। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সম্পৃক্ত করে গবেষণার মাধ্যমে সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক গবেষণাই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল এনে দিতে পারে।”

সম্মেলনে চিফ প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ লবণাক্ততা, পানির সংকট ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উপকূলের নিকটবর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে সহায়ক।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখ সারিতে থাকলেও এটি একই সঙ্গে স্থিতিস্থাপকতার এক বৈশ্বিক উদাহরণ।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মোঃ আমির হোসেন চৌধুরী এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস-এর প্রফেসর ড. শিনহুয়া পেং। সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের প্রধান ও সম্মেলনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব ড. মিল্টন হালদার।

দ্বিতীয় পর্বে জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশির ড. রিওটা কাতাওকা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম জহিরুদ্দিন অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

দুপুরের পর অনুষ্ঠিত টেকনিক্যাল সেশনে গবেষকরা ওরাল ও পোস্টার উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরেন। এতে দুই শতাধিক গবেষণা উপস্থাপিত হয় এবং সেরা ছয়জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ, জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীসহ তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম ‘সয়েল আর্কাইভ’ পরিদর্শন করেন। পরে উপাচার্যের সঙ্গে অদম্য বাংলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Link copied!