প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে জেলা পুলিশ।
এই লক্ষ্যে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে নিয়োগ ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ব্রিফিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিং সেশনে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানান।
সভায় পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে পূর্ণাঙ্গ ড্রেসরুল মেনে ইউনিফর্ম পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হওয়া।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ সহযোগিতা বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
একই সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে কোনো বহিরাগত বা অশুভ শক্তি নিয়োগ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "শুধুমাত্র তারাই পুলিশে যোগ দেবে যারা নিজেদের যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবে। প্রার্থীদের পরিবার যেন কোনো প্রতারক বা দালাল চক্রের প্রলোভনে পা না দেন। মনে রাখবেন, মেধা ও শারীরিক যোগ্যতাই এখানে একমাত্র মানদণ্ড।"
তিনি আরও বলেন, শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যারা সর্বোচ্চ ফলাফল করবে, তারাই চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাবে।
আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের পৃথক লাইনে সকাল আটটার আগেই মাঠে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম এবং পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা যাবে না। এসব সামগ্রী পুলিশ লাইন্সের নির্ধারিত স্থানে জমা রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ইভেন্টে কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।
ব্রিফিং সেশনে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিনহাজ উল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের এবং সহকারী পুলিশ সুপার শিক্ষানবিস অনির্বাণ দাস, মোঃ সোয়েব আহমেদ ও হিমন বিশ্বাস।
জেলা পুলিশের এই প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট হয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী তরুণ তরুণীদের পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা তদবিরের সুযোগ নেই এমন বার্তাই এখন সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
