প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে সম্ভাবনাময় একটি সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নবপ্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির ধারায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অর্জন করেছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় একাধিক স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, আব্দুল মজিদ কলেজ, হাজী আকরাম আলী মাদ্রাসা এবং আরজদ আলী মণ্ডল ভবন উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি একটি অস্থায়ী গেস্ট হাউজও ব্যবহৃত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে আবাসন সুবিধা চালু রয়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সেবা বিদ্যমান। শিগগিরই এ সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে পাঠদান চলছে। রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে প্রতিটিতে ৪০টি করে আসন রয়েছে। ফলে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬০।
ল্যাব সুবিধার ক্ষেত্রে রসায়নে একটি, পদার্থবিজ্ঞানে দুটি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে দুটি এবং ইইই সংশ্লিষ্ট একটি ল্যাব চালু রয়েছে। নবীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এসব ল্যাব ব্যবহারিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষকসংখ্যা সীমিত হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভর্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.২৫ সহ মোট জিপিএ ৭.০০ থাকতে হবে। পাশাপাশি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০ নম্বর অর্জন করতে হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর ওপর অতিরিক্ত নম্বর যুক্ত করা হয় না।
গত বছরের ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১১,০০০ মেধাক্রমের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রসায়ন বিভাগে ১০,০০০ থেকে ১৩,০০০, গণিত বিভাগে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৫,২০০ মেধাক্রমের মধ্যে ভর্তির সুযোগ মিলেছে। তবে চলতি বছরে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এ চিত্র পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে মনোযোগী হতে সহায়তা করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ শহরে টিউশনের সুযোগ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিজ খরচ আংশিকভাবে বহন করতে পারছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও একাডেমিক সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুবিপ্রবি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
