প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সংসদে এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের ঘোষিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সর্বশেষ নিয়োগ পরিস্থিতি ও শূন্যপদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’ এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।’
এদিকে, সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বিপুল সংখ্যক পদ এখনও শূন্য রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪ অনুযায়ী সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসসমূহের শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি।’
গ্রেডভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক পদে রয়েছে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবায় জনবল সংকট কমবে এবং সেবা প্রদানে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
