প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে (ডিআরএমসি) আয়োজিত ‘৩য় ডিআরএমসি জাতীয় ইসলামি সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’-এ কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ আসিফ ইসলাম। সে হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেছে আসিফ। শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আসিফের এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর গ্রামসহ পুরো এলাকা। স্থানীয়রা এটিকে জেলার জন্য গৌরবের অর্জন হিসেবে দেখছেন।
পারিবারিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে এই সাফল্যে পৌঁছেছে আসিফ। জানা যায়, জন্মের পরপরই তার বাবা মাকে ছেড়ে চলে যান। পরে নানি তাকে তুষভান্ডার ইউনিয়নের আমিনগঞ্জ গ্রামে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন করেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানার বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে ভর্তি করা হয় তাকে। সেই এতিমখানা থেকেই এবার জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য এনে দিল আসিফ।
দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৌশলী ও সমাজসেবক মেজবাহ উদ্দিন বিপ্লব। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার শুরু থেকেই স্থানীয়ভাবে নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
মেজবাহ উদ্দিন বিপ্লব জানান, “প্রতিষ্ঠানটি করার সময় তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, অনেক বাধা টপকাতে হয়েছে। কখনো কখনো তার মনে হয়েছে এই প্রতিকূলতা হয়তো জয় করা সম্ভব হবে না। তিস্তার কোলে যখন এটি করা হয় তখন কেউ মেনে নিতে রাজি হননি। কিন্তু আজ আসিফের এই অর্জন তার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই অর্জন প্রমাণ করেছে যে, উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে তবে ষড়যন্ত্র দিয়ে কারো পথ রুদ্ধ করা যায় না।”
বর্তমানে আসিফ এই মাদ্রাসায় ১৫ পারা হিফজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। সাফল্যের পর নিজের অর্জন শিক্ষকদের উৎসর্গ করেছে সে।
আসিফ জানান, “আমাদের মাদরাসাটি যদি মেজবা উদ্দিন বিপ্লব স্যার অনেক লড়াই করে গড়ে না দিতেন, তবে আজ আমি ঢাকার এই বড় মঞ্চে দাঁড়াতে পারতাম না। অনেক কষ্ট করে তিনি আমাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই পুরস্কার আমি আমার সেই শিক্ষক এবং বিপ্লব স্যারকেই উৎসর্গ করলাম।”
‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ স্লোগানে আয়োজিত এই উৎসবে দেশের শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ৩২টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ আয়োজনে লালমনিরহাটের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর বিজয়কে জেলার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিআরএমসির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বিজয়ীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
