বুধবার ০১, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ০১, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

ভর্তির টাকা জোগাতে শ্রমিকের কাজ করছে ওমর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

ওমরের সংগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মহিষাখোলা গ্রামের ওমর ওসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে নিজের টাকার জন্য শ্রমিকের কাজ করছেন।

ওমরের মা ফাতেমা খাতুন ছলছল চোখে বলেন, “স্বামীর কিডনি নষ্ট হয়া ১৪ বছর আগেই মারা গেছে। ইনকামের লোক নাই। ছেলে পড়াশোনা করতি চায়, কিন্তু আমি পারতিছিনে। এই ঘরটুক মানুষ সাহায্য করে তুলে দিছে। এহন ছেলে চাচ্ছে পড়াশোনা করতি। আমি মানা করছি, সে শোনতেছে না। আমি টাকা পাব কোনে?”

ফাতেমা খাতুন উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের স্ত্রী। সংসারে দুই ছেলে- ওমর ও রাফিউল। ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওমর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। ওমর উপজেলার জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪.৯২ পয়েন্টে এইচএসসি পাস করেছেন। কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারে এক শিক্ষকের সহযোগিতায় বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহিষাখোলা গ্রামের মেঠোপথের ধারে ওমরদের টিনশেড বাড়ি। ভেতরে দুটি ঘর, ভাঙা কাঠের দরজা এবং জানালায় ছেঁড়া কাপড় ও কাঠের টুকরা। বাড়ির পাশের মাঠে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে পেঁয়াজ তুলছিলেন ওমর।

ওমর বলেন, “স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত আমার লেখাপড়া হয়েছে। আমার পরিবারের সামর্থ্য নাই যে আমাকে একটা বই বা খাতা কিনে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে ৯০তম স্থান অর্জন করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি ও পড়াশোনা অনিশ্চিত। আপাতত ভর্তির টাকার জন্য আজকে থেকে মাঠে কাজ করছি ৫০০ টাকা মজুরিতে।”

ওমরের বন্ধু ইমরান হোসেন বলেন, “আমরা চাই, ওমরের পড়াশোনা যেন টাকার অভাবে বন্ধ না হয়।”

জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধানশিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, “ওমর ভালো ছেলে। বিনা খরচে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে সুনামের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি।”

Link copied!