প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
পরীক্ষায় নকলের ঘটনা ঘটলে শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী নয়, কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কেবল পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নয়, সেখানে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কোনোভাবেই অনিয়ম সহ্য করব না।"
এবার খাতা মূল্যায়নে ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে। আমরা চাই মেধার প্রকৃত প্রতিযোগিতা হোক। দয়া-দাক্ষিণ্যের মাধ্যমে অযোগ্যদের উত্তীর্ণ করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে চাই। আমরা আর কোনো অটোপাস চাই না।”
তিনি আরও বলেন, "পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র বিশেষভাবে তদারক করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্রেই বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে আগের মতো ‘হেলিকপ্টার মিশন’ পরিচালনা করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের যেকোনো কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল এবং পাহাড়ি কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হবে।
এছাড়া খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের অলিখিত অনুকম্পা বা নমনীয়তার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। অযোগ্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিমভাবে উত্তীর্ণ করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চেয়েছেন। এসব কেন্দ্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি ‘লাইভ মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কোনো কেন্দ্রে অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হবেন শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধেও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর আরোপ করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আনা হচ্ছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায়।
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
