বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

ছাত্রলীগ সন্দেহে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে মারধর করে পরে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে সেহরির সময়।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, তিনি সেহরি খেতে বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে মারধর করেন।

পাভেলের দাবি, হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তাকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে মারধর করেন। তিনি জানান, যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে বললেও তারা তার কথা শোনেননি।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে হলে তাকে মারধর করা হয়। এরপর পলাশীতে নিয়ে গিয়ে আবারও হামলা করা হয়। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে নেওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন মিলে আবার কিল-ঘুষি মারেন। মারধরের ফলে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তাকে শাহবাগ থানার সামনে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

পাভেলের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ছাত্রলীগের কর্মী সন্দেহে মারধর করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তার কোনো রাজনৈতিক পদও নেই। মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং আবরারের নাম উল্লেখ করেছেন পাভেল।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাইফুল্লাহ ও হাসিব আল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সেহরির সময় কয়েকজন তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং অসুস্থ থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর তিনি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন এবং ঘটনার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!