বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

বাংলাদেশ ফুটবলে অবকাঠামোর বড় সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাম্প্রতিক এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ কেবল একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা নয়; এটি দেশের ফুটবল অবকাঠামোর বাস্তব চিত্রও সামনে এনে দিয়েছে। প্রায় চার দশকের বেশি সময় পর এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই দল অস্ট্রেলিয়ার উন্নত মাঠে খেলে বুঝতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামোও।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থের স্টেডিয়ামগুলোতে অনুশীলন এবং ম্যাচ খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো নিখুঁত ঘাসের সমান মাঠের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। সেখানে বলের গতি, ঘাসের ঘনত্ব এবং মাঠের মসৃণতা তাদের কাছে এক নতুন অনুভূতি তৈরি করেছে। খেলোয়াড়দের মতে, এমন মাঠে খেললে বল নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়, যেখানে দেশের বেশির ভাগ মাঠ শক্ত ও অসমান হওয়ায় খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ফলাফল খুব একটা সুখকর ছিল না। তিনটি ম্যাচে গোল করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ১১ গোল হজম করতে হয়েছে। চীনের কাছে ২–০ গোলে হার, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫–০ এবং উজবেকিস্তানের কাছে ৪–০ গোলের পরাজয়ে শেষ হয়েছে তাদের অভিযান। তবে এই পরাজয়ের পেছনে কেবল শক্তিশালী প্রতিপক্ষই নয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

দলের কোচ পিটার বাটলার সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভালো মানের অনুশীলন মাঠ না থাকাই তাদের বড় সীমাবদ্ধতা। তাঁর মতে, উন্নত মাঠ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলা কঠিন। তিনি বিষয়টিকে এমন এক বক্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যে এক হাত পেছনে বেঁধে লড়াই করতে নামে।

দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় শিউলি আজিম এবং অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও একই আক্ষেপ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভালো মাঠে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মেয়েরা আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারবে। বিদেশে এসে তারা বুঝতে পেরেছে পেশাদার ফুটবলের পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত।

এই সফর বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ কি উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে, নাকি ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

Link copied!