বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

“রমজানের দিনে সাম্রাজ্য পতন”

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ফাইল ফটো

১১ রমজান ইতিহাসের পাতায় এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দিনে একদিকে আব্বাসীয় বিপ্লবের কালো পতাকা উড্ডীন হয়, অন্যদিকে পারস্যে মুসলিম বিজয়ের নতুন দ্বার খুলে যায়। ১২৯ হিজরির এই দিনে খোরাসানে আবু মুসলিম খোরাসানি আনুষ্ঠানিকভাবে আব্বাসীয় বিপ্লবের ডাক দেন। উমাইয়াদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অনারব মুসলিমদের বঞ্চনা এই আন্দোলনের জাগরণ ঘটায়। কালো পতাকা উত্তোলন ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক। বিপ্লবটি খোরাসান থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আব্বাসীয় খিলাফতের উত্থান হয়।

ঐতিহাসিক ১১ রমজান পারস্যের ভূখণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৩ হিজরিতে বুওয়াইব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেতু যুদ্ধে মুসলিমদের প্রাথমিক ব্যর্থতার পর সেনাপতি মুসান্না বিন হারিসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী পারস্যের সাশানিদের পরাজিত করে। এই জয় মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস ফেরায় এবং মাদায়েন জয়ের পথ সুগম করে। ইতিহাসবিদরা এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী প্রতিটি শত্রুকে অন্তত দশজন পরাভূত করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

১২৫৭ খ্রিষ্টাব্দে হালাকু খানের চরমপত্রও এই দিনে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়। মঙ্গোল সেনাপতি হালাকু খানের চিঠিতে বাগদাদে আত্মসমর্পণ ও অস্ত্রশস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ ছিল। যদিও খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়, এবং কয়েক মাস পরই বাগদাদে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।

অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসেও ১১ রমজান গুরুত্বপূর্ণ। ১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দে মারজ দাবিক যুদ্ধে মামলুকদের পরাজয়ের পর সুলতান প্রথম সেলিম দামেস্কে প্রবেশ করেন। ওসমানীয়রা বারুদের ব্যবহার করে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন এবং পবিত্র হজ কাফেলা ও বাণিজ্যপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।

১১ রমজান ইতিহাসের এক দিনের মধ্যে বিশ্বের বড় বড় সাম্রাজ্য উত্থান-পতন ও রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি সংকীর্ণ সন্ধিক্ষণ। আব্বাসীয় খিলাফত, পারস্য বিজয় ও ওসমানীয় আধিপত্য—এই দিনটিকে ইতিহাসে সমৃদ্ধ করেছে।

Link copied!