বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

রমজানে ইবাদতে বরকতের সাত আদব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

ফাইল ফটো

পবিত্র রমজান শুধু ক্ষুধা–তৃষ্ণা সহ্য করার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। সাহ্‌রি থেকে ইফতার পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত, জিকির, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতে কাটানোই রোজার প্রকৃত সৌন্দর্য। হাদিসে রোজার এমন কিছু আদব বা শিষ্টাচারের কথা উল্লেখ আছে, যা রোজাকে পরিপূর্ণ ও বরকতময় করে তোলে।

প্রথমত, সাহ্‌রি গ্রহণ করা রোজার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। দেরি করে সাহ্‌রি করা উত্তম এবং এতে বরকত রয়েছে। অল্প খাবার কিংবা এক ঢোক পানি হলেও সাহ্‌রি ত্যাগ না করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এটি রোজাদারকে শক্তি জোগায় এবং সারা দিনের ইবাদতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয়ত, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করা রোজার আদব। খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত; না থাকলে পানি দ্বারা ইফতার করা উত্তম। সময়মতো ইফতার করাকে কল্যাণের নিদর্শন বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, রোজা অবস্থায় এবং বিশেষ করে ইফতারের মুহূর্তে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ আশা রয়েছে। ইফতারের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে, যা রোজার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আরও গভীর করে।

চতুর্থত, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; মিথ্যা, গীবত, অশ্লীল ও অনর্থক কথা থেকেও বিরত থাকা অপরিহার্য। কেউ গালি দিলে উত্তরে সংযম প্রদর্শন করে নিজেকে রোজাদার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সত্যবাদিতা ও চরিত্র সংযম রোজার মূল চেতনা।

পঞ্চমত, মিসওয়াক করা রমজানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খাওয়ায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সুন্নত আমল।

ষষ্ঠত, রমজানে সদকা ও কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। মহানবী (সা.) এ মাসে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন এবং নিয়মিত কোরআন পাঠ করতেন।

সবশেষে, রমজানের শেষ দশক ইবাদতের শীর্ষ সময়। এ সময় লাইলাতুল কদরের সন্ধান করতে অধিক নফল ইবাদত, কিয়ামুল লাইল ও পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহিত করার দৃষ্টান্ত রয়েছে।

এসব আদব পালনের মাধ্যমে রোজা হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ, বরকতময় ও আত্মশুদ্ধির মহাসোপান।

Link copied!