প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
পবিত্র রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চর্চার সময় হলেও ইফতারের টেবিলে অসংযত খাবার গ্রহণ অনেকের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন রোজা রাখার পর অতিরিক্ত ক্ষুধা ও আবেগের বশে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলেন। এর ফলাফল হিসেবে রমজান শেষে ওজন বৃদ্ধি, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং ক্ষুধা-উদ্দীপক হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে শরীর দ্রুত শক্তির চাহিদা মেটাতে চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একই সঙ্গে পাকস্থলী থেকে মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। ফলে দ্রুত খেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ হয়ে যায়।
সঠিক পদ্ধতিতে ইফতার শুরু করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ভারী ও ভাজাপোড়া খাবার দিয়ে না শুরু করে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা ভালো। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে স্থিতিশীল হয়। এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিরতি নিয়ে হালকা স্যুপ, সালাদ বা ফল খেলে পাকস্থলী ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
খাবারের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, প্লেটের অর্ধেক অংশ শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি অংশ গোটা শস্য দিয়ে সাজাতে। মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা, দই, বাদামি চাল বা রুটি সুষম খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। ছোট প্লেট ব্যবহার ও নির্ধারিত পরিমাণে খাবার নেওয়া অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে।
খাওয়ার সময় মনোযোগী হওয়াও জরুরি। টেলিভিশন বা মোবাইল দেখতে দেখতে খেলে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়। প্রতিটি লোকমা ধীরে চিবিয়ে খেলে তৃপ্তি বাড়ে এবং হজম সহজ হয়।
মিষ্টি ও ভাজা খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বেইকড বা গ্রিলড খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সিরাপভর্তি মিষ্টির বদলে ফল বা কম চিনিযুক্ত ঘরোয়া ডেজার্ট স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেহরি না বাদ দেওয়া। প্রোটিন, আঁশ ও পর্যাপ্ত পানি-সমৃদ্ধ সেহরি সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
সংযম, সচেতনতা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে রমজানকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
