জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
বৃহস্পতিবার ১৯, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --
জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ চুরির অভিযোগে তদন্তের দাবিতে তালা ঝুলিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পঞ্চম তলায় বিভাগটিতে তালা ঝুলিয়ে তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর বিভাগটির শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ ও আর্থিক অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ০৪ দাবি উত্থাপন করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন, শাস্তি প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের নরাপত্তার স্বার্থে সুষ্ঠু সমাধানের পূর্ব পর্যন্ত উক্ত শিক্ষকের সকল একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের নিশ্চয়তা প্রদান এবং কোন শিক্ষার্থী যেন কোন শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হয় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা জানান, “শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার ফাইনাল বা যেকোনো পরীক্ষা চলাকালীন ব্যাগ সামনে রাখলে সেখান থেকে প্রায়ই টাকা চুরির ঘটনা শোনা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ তারিখে বিভাগ থেকে বিভাগের বনভোজনে যাওয়ার পথে প্রায় ৮০০০ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।”
তিনি আরও জানান, “সেখানে বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে ৬০০০ টাকা, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০০ টাকা এবং বিভাগের সেকশন অফিসারের স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা চুরি হয়। বিভাগীয় প্রধানের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর উক্ত শিক্ষিকার ওপর সন্দেহ করা হয় এবং রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করা হলে উক্ত শিক্ষিকার কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়।”
আন্দোলনকারী স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তকিব হাসান বলেন, “অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সেটি প্রক্টরের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আবার উপাচার্যের কাছে গেলে বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতা ও তালবাহানার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছি। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”
বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, “আমাদের বিভাগ বরাবর অ্যাপ্লিকেশন এসেছে ৮ তারিখ। শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল উপাচার্যের কাছে, সেখানে প্রক্টর সহ অনেকে ছিলেন সেখান থেকে বলা হয়েছে বিভাগের মাধ্যমে আসবে, প্রথমে বিভাগ পরে ডিন এইভাবে প্রক্রিয়াগত ভাবে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানাতে এসেছে বিভাগ কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন আমি জানিয়েছি যে আমার জানা মতে এইখানে বিভাগের এখতিয়ার নেই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেই প্রভাষক বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ট্রমাটাইজড। আমার ক্লাস নেওয়ার ছিলো আজকে, নিতে পারছি না। আমি একটু স্টেবল হয়ে নেই, তারপর আমি নিজেই তোমাদের ডেকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো।”
এ বিষয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জনি জানান, তালাবদ্ধ থাকায় আমরা বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে পারিনি, প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।