প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কাজী নজরুল ইসলাম—বাংলার অনবদ্য কবি, সমাজ সংস্কারক ও লড়াকু চেতনাবাহক—ছোটদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয়। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি সাহিত্য জগতে অমোঘ ছাপ রেখে গেছেন। শিশু সাহিত্যকে তিনি শুধু রূপায়ণ করেননি, বরং তা দিয়ে শিশুদের কল্পনা, সৃজনশীলতা এবং স্বপ্নবীজ বপন করেছেন।
শিশুদের প্রতি নজরুলের প্রেম স্পষ্ট। তিনি ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেছেন, যা ছোটদের কল্পনাশক্তি উজ্জীবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, “মায়ের কণ্ঠে প্রভাতী” এবং “ঘুম পাড়ানি” ছড়াগুলো শিশুদের মনকে আলোকিত করে এবং তাদের রূপকল্পকে উড়ন্ত করতে সহায়ক। তাঁর সাহিত্য শিশুদের অন্তরে আত্মবিশ্বাস, উদ্দীপনা এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি করে।
কবি নিজেও শৈশবেই নানা দুঃখ ও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শৈশবের নাম ছিল “দুখু মিয়া।” পরিবারিক সীমাবদ্ধতা, মায়ের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, এবং জীবনের প্রাথমিক বঞ্চনা তাঁকে লড়াকু এবং সহিষ্ণু করে গড়ে তুলেছিল। এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁর কবিতায় বিদ্যমান সাহসী ও সামাজিক চেতনার বীজ বপন করেছিল।
নজরুল শিশুদের মধ্যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতেন। তাঁর কবিতায় প্রজাপতির মতো খোলা মনে খেলাধুলা, পাখির মতো অবাধ বিচরণ এবং নতুন জগতের প্রতি আগ্রহ ফুটে ওঠে। “আমি হব সকাল বেলার পাখি / সবার আগে কুসুম বাগে উঠবো আমি ডাকি,”–এর মতো লাইন শিশুদের কল্পনাশক্তি ও নতুন উদ্দীপনাকে উজ্জীবিত করে।
তিনি শিশুদের কল্পনাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এটি সাহিত্যের মাধ্যমে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছিলেন। নতুনকে আলিঙ্গন করা, সীমানা ভেঙে বিশ্বের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা—এই ভাবনাই শিশু সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। নজরুলের শিশু সাহিত্য কেবল মধুর রসায়ন নয়, এটি এক শিক্ষণীয় দিশারী যা শিশুদের ভবিষ্যতের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার শক্তি দেয়।
ছোটদের কাছে তিনি এক সত্যিকারের জাদুকর—শুধু কবি নয়, শিশুদের স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার পথপ্রদর্শক। বাংলা শিশু-সাহিত্যের এই মহাপুরুষ আমাদের গর্ব, অনুপ্রেরণা এবং শিশুসৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক।
