প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
রমজান মানেই শুধু সাহরি–ইফতারের আয়োজন, তারাবির দীর্ঘ কাতার বা কোরআন তিলাওয়াত নয়—এই মাসের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে এক নীরব ইবাদতে, যা আমরা অনেক সময় চোখে দেখি না, কিন্তু হৃদয়ে অনুভব করি। বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি এমন এক আধ্যাত্মিক অনুশীলন আছে, যেখানে কাজের চেয়ে ‘বর্জন’-এর মূল্য বেশি।
ইসলামী চিন্তাবিদ ইমাম ইবনে তাইমিয়া ইবাদতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ যেসব কাজ পছন্দ করেন—তা প্রকাশ্য হোক বা অন্তরের—সবই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ শুধু কিছু করা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু থেকে বিরত থাকাও বড় ইবাদত হতে পারে। এই ধারণাই রমজানের গভীর তাৎপর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
পবিত্র কোরআনের কোরআন সূরা বাকারা (১৮৩ নম্বর আয়াত) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রোজার উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। ক্ষুধা–তৃষ্ণা সহ্য করাই শেষ লক্ষ্য নয়; বরং আত্মসংযমের মাধ্যমে চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য। প্রখ্যাত আলেম ইমাম গাজালি রোজাকে শুধু পানাহার ত্যাগ নয়, বরং পাপ থেকে সামগ্রিক বিরত থাকার অনুশীলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
রোজার স্তর নিয়েও বিশ্লেষণ আছে। ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি তিনটি স্তরের কথা বলেন—সাধারণ মানুষের রোজা কেবল খাওয়া–দাওয়া বর্জন; ধর্মভীরুদের রোজা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপ থেকে রক্ষা; আর বিশিষ্টজনদের রোজা অন্তরকে নীচ চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা। এভাবেই রোজা ধীরে ধীরে আত্মিক উৎকর্ষের সোপানে পৌঁছে দেয়।
হাদিসে সহিহ বুখারি উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা ও অসৎ আচরণ বর্জন করতে পারে না, তার অনাহারে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। আবার সহিহ মুসলিম শেখায়, হাসিমুখে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও নেক আমল।
ডিজিটাল যুগে এই সংযমের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। অকারণ স্ক্রলিং, গিবত, তর্ক—এসব থেকে বিরত থাকাও আধুনিক সময়ের রোজা। কর্মজীবী, গৃহিণী বা শিক্ষার্থী—সবার জন্যই আছে নিজ নিজ অবস্থানে সংযমের চর্চা।
রমজান তাই শেখায়, সবসময় বেশি করা নয়—কখনো কখনো কম করাই বড় অর্জন। যখন মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায়, রাগ ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়, তখনই আত্মা পায় প্রকৃত পুষ্টি। এই নীরব অনুশীলন যদি রমজানের পরও জীবনে থেকে যায়, তবেই রোজা হয়ে ওঠে সত্যিকারের সফল
