বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

লবণই কি নীরব ঘাতক?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

পরিমিত লবণ গ্রহণ হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ সুস্থ রাখতে সহায়ক

মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে লবণ অপরিহার্য একটি উপাদান। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, স্নায়ু সংকেত পরিবহন সহজ করে এবং পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছাতে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণকে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা আবার ইঙ্গিত দিচ্ছে, খুব কম লবণ গ্রহণও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—লবণ আসলে কতটা খাওয়া নিরাপদ?

বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ লবণ গ্রহণের সীমা ৬ গ্রাম নির্ধারণ করা হলেও গড় গ্রহণের পরিমাণ ৮ গ্রামের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় দৈনিক লবণ গ্রহণ প্রায় ১০ গ্রাম ছাড়িয়ে গেছে।

এই অতিরিক্ত লবণের বড় অংশ আসে প্রক্রিয়াজাত ও রেস্তোরাঁর খাবার থেকে। আমরা রান্নায় যে লবণ ব্যবহার করি, তা মোট গ্রহণের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। অনেক সময় খাবারের লেবেলে ‘সোডিয়াম’ লেখা থাকায় প্রকৃত লবণের পরিমাণ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি লবণ গ্রহণ সরাসরি রক্তচাপ বাড়ায়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। WHO-এর তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দৈনিক ৫ গ্রাম অতিরিক্ত লবণ হৃদরোগের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, লবণ কমালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী লবণের প্রতি সংবেদনশীলতা ভিন্ন হতে পারে। কিছু গবেষণায় খুব কম লবণ গ্রহণের সঙ্গেও স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, দৈনিক ৩ থেকে ৬ গ্রাম লবণ গ্রহণকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ধরা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, লুকানো লবণের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লবণ পুরোপুরি বাদ নয়, বরং পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

Link copied!