বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

রাতে শিক্ষা ক্যাডারে একযোগে বৃহৎ পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৪ এএম

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে একসঙ্গে বড় ধরনের পদোন্নতি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১ হাজার ৮৭০ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়। পদোন্নতির বিষয়টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যেই স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে।

 

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা এখন জাতীয় বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে সুবিধা পাবেন, যেখানে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৬৭ হাজার ১০ টাকা। তবে পদোন্নতি পেলেও তাঁদের কারও দায়িত্ব পরিবর্তন হচ্ছে না—তাদের 'ইনসিটু' পদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা নিজ নিজ কলেজ বা দপ্তরে পূর্বের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ জমে উঠেছিল। প্রায় এক দশক ধরে আটকে থাকা পদোন্নতির কারণে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন–প্রতিবাদও হয়েছিল। সম্প্রতি প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা রাস্তায় নেমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবি মেনে বহুল প্রতীক্ষিত পদোন্নতি কার্যকর হলো।

 

একজন কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “নয় বছরের বেশি সময় পর প্রথম পদোন্নতি পেলাম। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর শেষে এই পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল।” তার মতে, এ পদোন্নতি অনেক দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে, তবে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

 

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পদোন্নতি বৃহৎ আকারে ‘ক্যারিয়ার স্থবিরতা’ দূর করবে। তবে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতেও যেন একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হবে।

 

এ পদোন্নতির ফলে দেশের শত শত কলেজে শিক্ষক সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক কর্মপরিবেশ উন্নয়নের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।

Link copied!